সাইফুল ইসলাম ফয়সালঃ
কুমিল্লায় মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে মহিউদ্দিন সরকার নাঈম নামের এক সাংবাদিক নিহত হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার বুড়িচং উপজেলার সীমান্ত ঘেষা রাজাপুর ইউনিয়নে হায়দরাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিউদ্দিন জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অলুয়া গ্রামের সরকার বাড়ির পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এএসআই মোশাররফ হোসেনের ছেলে। মহিউদ্দিনের পকেট থেকে স্থানীয় একটি অনিয়মিত পত্রিকার কার্ড পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা নাজমা আক্তার বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী হায়দরাবাদ নগর এলাকায় নোম্যান্স ল্যান্ডের ২-৩ গজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে মাদক ব্যবসায়ীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুরুতর আহত হন মহিউদ্দিন সরকার নাঈম (২৮)। স্থানীয়রা জানান, ওইসময় বিজিবির লোকজন স্থানীয় রুবেল ও রাব্বি নামে দুই যুবকের মাধ্যমে আহত নাঈমকে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেহাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যান।লশ নিহত নাঈমের পকেট থেকে স্থানীয় একটি পত্রিকার কার্ড পেয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে নাঈম তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে লেখার পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্য দিয়ে মাদকের একাধিক চালান ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। এতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা তার উপর ক্ষিপ্ত ছিল এবং একবার তাকে মারধরও করে। এরই জের ধরে মাদক ব্যবসায়ী চক্রের মূল হোতা রাজুর নেতৃত্বে তাকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানববন্ধন করে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানায় বিভিন্ন সংগঠন। কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহান সরকার সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় নিহত মহিউদ্দিন সরকার নাঈমের মা নাজমা আক্তার বাদী হয়ে মো. রাজু (৩৫), মো. ফরহাদ মৃধা ওরফে মনির হোসেন (৩৮) ও মো. পলাশ মিয়াকে (৩৪) এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেন বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি ফরহাদ মৃধা, মো. পলাশ মিয়া ও এজাহার বহির্ভূত নুরু মিয়া ও সুজনসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি রাজু ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, হত্যাকান্ডের পর থেকেই পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে। এরই মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে। খুব সহসা সকল ঘাতকদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।