ঢাকাবুধবার , ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

জুমুআর ফজিলত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা 

প্রতিবেদক
Admin
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১ ৬:৪৭ অপরাহ্ণ

 

মাওঃ ছোহাইল আহমাদ হেলালি
আল্লাহ বলেন: হে ঈমানদারগণ, যখন জুমুআর দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হবে, তখন তোমরা আল্লাহর জিকির এর দিকে ধাবিত হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিত্যাগ করবে। এটি তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা জানতে পার ।সূরা জুমু,আ আয়াত 9হযরত আউশ ইবনে আউশ (রা) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা:) বলেছেন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিবস হচ্ছে জুমাআর দিবস। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এবং এই দিনই তাকে জমিনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং এই দিনে শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে। এই দিনে মানুষ বেহুশ হবে, এইদিনে তোমরা অধিকহারে আমার উপর দরুদ পাঠ করবে। কারণ তোমাদের দরুদ আমার নিকট পেশ করা হবে। লোকেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমাদের দরুদ কি ভাবে আপনার নিকট পেশ করা হবে। আপনার দেহ তো তখন মাটির সাথে মিশে যাবে। তিনি বললেনঃ তোমরা বলছ আমার দেহ মাটির সাথে মিশে যাবে। আল্লাহ তো নবীগণের দেহ ভক্ষণ মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।অন্য হাদীসে এসেছে, রাসুল (সা:) বলেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন উত্তমরূপে গোসল করবে, দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হবে শুরু থেকেই খুতবা শুনবে ইমামের নিকটে বসবে নীরব থাকবে। কোন প্রকার অনর্থক কথা বা কাজ করবেনা, তার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছর ব্যাপী দিবসে রোজা এবংএক বছর রাতে নফল নামাজ পড়ার সওয়াব লিখে দেওয়া হবে।জুমার দিবসের গুরুত্ব এবং দোয়া কবুলের সর্বোত্তম মুহূর্ত: হযরত আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন। সূর্য উদিত হয়েছে এমন সর্বশ্রেষ্ঠ দিবস হচ্ছে জুমার দিবস। তাতে আদম আলাইহিস সাল্লাম কে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাকে এই দিনে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং জমিনে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এই দিনে কেয়ামত সংঘটিত হবে। তাতে রয়েছে এমন একটি মুহূর্ত মুমিন ব্যক্তি যদি তাতে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে তিনি অবশ্যই তা তাকে দান করবেন। আবু সালামা বলেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম বলেছেন সেই মুহূর্ত সম্পর্কে আমি অবগত তা হচ্ছে দিবসের শেষ মুহূর্ত। অর্থাৎ আসর থেকে মাগরিবের নামাজের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত দোয়া কবুলের সময়।খুতবা কালীন সময় নিশ্চুপ থাকা: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয় বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেন সত্য বলেছে অতঃপর তিনি বলেন যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে তৈল এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে উত্তম পোশাক পরে মসজিদে যায় কাউকে কষ্ট দেয় না গাঁড় ডিঙ্গিয়ে সামনে এগোয় না এবং আল্লাহ তার তৌফিকে যা রেখেছে নামাজ পড়ে। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য উপস্থিত হলে নিশ্চুপ বসে থাকে আল্লাহ তার দুই জুম’আর মধ্যবর্তী সময়ে পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। অর্থাৎ গত জুমা থেকে এই জুমা পর্যন্ত মাঝখানের সমস্ত সগিরা গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দিবেন।যে বিষয়টি লক্ষণীয়: খুতবা চলাকালীন সময়ে সামান্যতম কথা বলা নিষিদ্ধ ও হারাম করা হয়েছে। এমনকি কাউকে চুপ করতে নির্দেশ দেওয়া নিষিদ্ধ উপরোক্ত হাত দিয়ে কিছু নাড়াচাড়া করা কাঁকর সরান ইত্যাদিও নিষেধ করা হয়েছে। এরূপ করলে জুমুআর সাওয়াব থাকবে না। যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ মনোযোগ ও নীরবতার সাথে খুতবা শুনবে সে জুমুআর ছাওয়াব ছাড়াও অতিরিক্ত ক্ষমা ও পুরষ্কার লাভ করবে বলে বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে। জুমআর সালাতে অন্যতম ইবাদত হল ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা।আল্লাহ আমাদের সবার আমলনামায় জুমুআর পূর্ণ বরকত ও ফজিলত দান করুন। আমিন ছুম্মা আমিন।

সর্বশেষ - সারাদেশ