মামুন মজুমদার।।
মহামারী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে সারাদেশে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কয়েক দফা ছুটি বাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি গতকাল পর্যন্ত চলমান ছিল। দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে বাড়িতে বসে ছুটি কাটিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে উঠেছে কুমিল্লা সদর দক্ষিন উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিয় প্রাঙ্গণে আসতে পেরে উচ্ছ্বসিত তারা।
সকাল ১০টায় সরেজমিনে লালমাই উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সাজ সাজ পরিবেশ। সারিবদ্ধ ভাবে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে দাঁড় করানো শিক্ষার্থী। সবার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে প্রবেশ করানো হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে। শ্রেণিকক্ষের প্রবেশমুখে সচেতনতামূলক লিফলেট
দিয়ে তৈরি করা হয়েছে স্কুল বারান্দা, আর অতি আনন্দে ভেতরে প্রবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ব্যতিক্রমী আয়োজনের ব্যাপারে লালমাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করবে। তাই তারা যেন উৎসব আমেজ পায় তার জন্য মিষ্টমুখ করিয়ে সেই সাথে কলম ও মাস্ক বিতরণ করে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানিয়েছি। শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে এনেছি। শিক্ষার্থীরা যেন উৎফুল্ল থাকে, শারীরিক ও মানসিক ভাবে যেন তারা সুস্থ থাকে সে ব্যাপারে আমরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করবো পাঠদানে।
লালমাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহসিন জানায়, স্কুল বন্ধ থাকায় অনলাইনে ক্লাস করেছে সে। কিন্তু সেটি তেমন প্রাণবন্ত ছিল না। বিদ্যালয়ে সশরীরে এসে প্রিয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে ক্লাস করতে পেরে যেন দেড় বছর আগের সেই স্বাদ ফিরে পেয়েছে সে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছে হাজী আক্রাম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়।এ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী বিথী বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত প্রায় দেড় বছর পর স্কুলে উপস্থিত হতে পেরে এবং পাঠ্যক্রম নতুন করে শুরু করার কারণে, যেহেতু আমরা এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাই আমরা একটি সুন্দর অল্প সময় পাব কিন্তু ছোটখাটো হলেও আমরা সুন্দর প্রস্তুতি নিতে পারবো।
এবিষয়ে হাজী আক্রাম উদ্দিন হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু তাহের বলেন, ২৩শে আগস্ট নোটিশ পাওয়ার পর আমরা স্কুল ক্যাম্পাস সহ শ্রেণী কক্ষ পরিষ্কার, তাপমাত্রা ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করি। আমরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।
এ বিষয়ে সদর দক্ষিন উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জানান, সদর দক্ষিন উপজেলার প্রাথমিক,মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক, কিন্ডারগার্ডেন ও মাদ্রাসা মিলে ১৫২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। সবগুলোতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ থেকে পাঠদান শুরু হয়েছে।
সদর দক্ষিন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাবলু বলেন,
স্কুল, কলেজ চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফুটেছে সেই সাথে অভিভাবকরাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এতদিন ধরে ঘরমুখো শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে যেন উৎসবের আমেজ। শিক্ষক ও কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের ফুল, মিষ্টি ও মাস্ক বিতরনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রবেশ করছেন, প্রাণোচ্ছল রূপ ফিরে পেয়েছে শিক্ষাঙ্গন।
এ দিকে সদর দক্ষিন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার জানান, টানা বন্ধে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো পুষিয়ে দিতে হলে শিক্ষকদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এবং শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষা দেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তুলতে হবে।
সদর দক্ষিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভাশিস ঘোষ বলেন, উপজেলার সবগুলো স্কুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী নিশ্চিত করা হয়েছে। সব ধরনের সরকারি নির্দেশনা মেনেই স্কুলে ক্লাস চালু হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে সকল স্কুল মনিটরিং করেছি।