ঢাকাসোমবার , ১৯ জুলাই ২০২১

যিলহাজ্ব মাস: একনিষ্ঠতা ও আল্লাহর স্বরনে জীবন গড়ার মাস

প্রতিবেদক
Admin
জুলাই ১৯, ২০২১ ২:৫১ অপরাহ্ণ

মিশর থেকে মাওলানা এনামুল হক আজহারী

বছর ঘুরে আবারও আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে পবিত্র জিলহাজ্ব মাস। মুমিনের অন্তরে এই মাসটির রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা। বস্তত‍ঃ এই মাসের ইতিহাস মুসলিম উম্মাহর আত্মত্যাগ ও একনিষ্ঠতার প্রতিক। এই মাসের প্রথম দশ দিন খুবই ফযীলতের। এই সময় গুনাহ ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকার বিশেষ গুরুত্ব আছে। এবং ঈদের দিন ছাড়া বাকি নয় দিনের রোযা, বিশেষত নয় যিলহজ্বের রোযার বিশেষ ফযীলত হাদীস শরীফে উল্লেখিত হয়েছে। আর দশ যিলহজ্ব তারিখটি হচ্ছে ‘ইয়াওমুন নাহর’ তথা- কুরবানীর দিন। এই তারিখে মুসলমানগণ কুরবানী করেন এবং ঈদুল আযহা উদ্যাপন করেন। সব মিলিয়ে এই সময়টি মুসলমানদের কাছে খুবই আবেগ ও উদ্দীপনার।
🔹 হজ্ব ও কুরবানীর পরিচয় হচ্ছে এটি আল্লাহর ইবাদত। আর ইবাদতের প্রাণ হচ্ছে ‘আল্লাহর যিকর’। তাই হজ্ব ও কুরবানীরও মূল কথা ‘যিকরুল্লাহ’- আল্লাহর স্মরণ। যে তালবিয়ার মাধ্যমে হজ্বের সূচনা হয় তা তো আল্লাহর স্মরণের এক গভীর ও সারগর্ভ কালিমা-
لبيك اللهم لبيك، لبيك لا شريك لك لبيك، إن الحمد والنعمة لك والملك، لا شريك
(‘লাব্বাইকাল্লা-হুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা-শারীকা লাক’)
অর্থাৎ- আমি হাজির, ইয়া আল্লাহ! আমি হাজির। আমি হাজির, তোমার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই প্রশংসা ও দান তোমার, রাজত্ব তোমার, তুমি লা-শারীক।

আল্লাহর স্মরণ, তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলী ও অনুগ্রহের স্মরণ, তাঁর রাজত্ব ও কর্তৃত্বের স্মরণ এবং তিনিই একমাত্র উপাস্য ও পালনকর্তা, প্রভু ও পরওয়ারদেগার, তাঁরই সকাশে অবনতশীর বান্দার আনুগত্য স্বীকারে ভাস্বর তালবিয়ার এই জ্যোতির্ময় বাক্যমালা। এই বাক্যমালাই উচ্চারিত হতে থাকে বান্দার কণ্ঠে হজ্বের দীর্ঘ সময় জুড়ে।
এরপর হজ্বের অন্যান্য কাজ- বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সাফা-মারওয়ার সায়ী, আরাফা-মুযদালিফার উকূফ, মিনার রমী সবই আল্লাহর স্মরণের এক একটি পর্ব। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إِنمَا جُعِلَ رَمْيُ الجِمَارِ، وَالسعْيُ بَيْنَ الصّفَا وَالمَرْوَةِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللهِ.
বাইতুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সায়ী ও কংকর নিক্ষেপ এগুলো তো আল্লাহর স্মরণ কায়েম করবার জন্যই। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৮৮৩; জামে তিরমিযী, হাদীস: ৯০২।

এভাবে হজ্বের কাজগুলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর যিকর ও স্মরণেই উদ্ভাসিত। হজ্বের কাজসমূহ ছাড়াও এই সময়ের এক সাধারণ বৈশিষ্ট্য আল্লাহর স্মরণ। এ সময় আছে তাকবীরে তাশরীকের বিধান, অর্থাৎ নয় যিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩ই যিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর একবার এই তাকবীর পাঠ করার বিধান নারী-পুরুষ সকলের জন্য-
الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، الله أكبر، الله أكبر، ولله الحمد.
(‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ)
অর্থ- “আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আল্লাহরই জন্য সকল প্রশংসা”।

তাকবীর, তাহলীল ও তাহমীদের জ্যোতির্ময়তায় উদ্ভাসিত তাকবীরে তাশরীকের এই কালিমা। এরপর ঈদের দিন ঈদগাহে আসার সময় আছে তাকবীর। আরো আছে সালাতে ও খুতবায় অতিরিক্ত তাকবীর। এককথায় হজ্ব ও কুরবানীর মওসুম যেন বিশেষভাবে আল্লাহর স্মরণেরই মওসুম। যাতে আছে আল্লাহর বড়ত্ব ও মহত্বের স্মরণ, আল্লাহর শক্তি ও কর্তৃত্বের স্মরণ এবং আল্লাহর দান ও অনুগ্রহের স্মরণ। আছে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কের স্মরণ। আল্লাহই একমাত্র মাবুদ ও উপাস্য, প্রভু ও পরওয়ারদেগার, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং তাঁর আনুগত্যের বিপরীতে আর কারোর আনুগত্য নেই, আছে এই মহা অঙ্গিকারের স্মরণ। আছে নিজস্ব রুচি-অভিরুচি, যুক্তি-বুদ্ধি, বিচার-বিবেচনাকে আল্লাহর হুকুমের তাবে বানানো, আছে প্রচলিত-অপ্রচলিত নানা মত ও মতবাদ থেকে বিমুখ হয়ে এক আল্লাহর প্রতি সমর্পিত হওয়া এবং এক আল্লাহর আনুগত্যকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে শিরোধার্য করা। এই যে মহা শিক্ষা, আল্লাহর স্মরণ ও সমর্পণের এই যে অঙ্গিকার, ব্যক্তি ও সমাজের জন্য আজও তা সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। পার্থিব জীবনে শান্তি ও পবিত্রতা আর আখিরাতের মুক্তি ও সফলতার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ব্যক্তি-জীবনের হতাশা ও অস্থিরতা, পারিবারিক জীবনের অশান্তি ও ব্যর্থতা আর সামাজিক জীবনের দ্বন্দ-সংঘাত- এইসবের মূলেই কি আল্লাহর বিস্মৃতি কার্যকর নয়? আল্লাহ-বিস্মৃতির প্রথম শাস্তি আত্মবিস্মৃতি। তাই আল্লাহভোলা মানুষ ঐ পথে চলে, যে পথে তার ইহকাল-পরকাল দু’টোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

🔹 কুরবানী করার সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোবারক যবানে যে জ্যোতির্ময় বাক্য উচ্চারিত হয়েছিল, তা হলো-
اللهم منك ولك.
অর্থাৎ [ইয়া আল্লাহ! (এ) তোমার পক্ষ হতে আর তোমারই জন্য]-

রাসুলের পূর্ণবান এই কথা যেন হয় আমাদের হৃদয়ের চিরন্তন আকুতি, আমাদের গোটা জীবনের সকল পুণ্যকর্মের প্রেরণা ও অনুভূতি।

আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ আল্লাহরই জন্য, যিনি রাব্বুল আলামীন।

আমার যা কিছু ভালো, যা কিছু প্রশংসনীয় তা একমাত্র তাঁরই তরফ থেকে, তারই করুণার দান।

🔹 ইসলামী ভ্রাতৃত্ব রক্ষা এবং একে অপরকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকাও হজ্ব ও কুরবানীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ, কটুবাক্য ব্যবহার, উত্তেজিত হওয়া ও উত্তেজিত করা হজ্বের সফরে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি হজ্বের বিভিন্ন আমলেও অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বাঁচার বিধান আছে। যেমন ভীড়ের কারণে অন্যকে কষ্ট দেওয়া ছাড়া হজরে আসওয়াদে চুম্বন করা সম্ভব না হলে দূর থেকেই হাত তোলার নিয়ম আছে। আর এ শুধু হজ্বের সফরের বিধান নয়, বরং গোটা জীবনের বিধান। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিদায় হজ্বের বাণী, (অর্থ) সাবধান! তোমাদের একের রক্ত, সম্পদ, ইজ্জত-আব্রু অন্যের জন্য তেমনি নিষিদ্ধ ও সম্মানিত যেমন এ শহরে এ মাসে আজকের এই দিন নিষিদ্ধ ও সম্মানিত। তাঁর সেই পবিত্র ভাষণের কথাগুলো আজ আবার আমাদের স্মরণ করা উচিত।

🔹 মক্কায় পবিত্র-ভূমি, যমযম, সাফা-মারওয়ার সাথে জড়িয়ে আছে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও আনুগত্যের কত আলোকিত ইতিহাস। আল্লাহর আদেশে আল্লাহর খলীলের স্ত্রী ও পুত্রকে তৃণলতাহীন বিরাণ ভূমিতে রেখে যাওয়া, শিশু-সন্তান কোলে এক মমতাময়ী মায়ের পবর্তপ্রমাণ তাওয়াক্কুল ও আল্লাহ-ভরসা। সঙ্কটের মূহুর্তে সাফা-মারওয়ার মাঝে ছোটাছুটি আর আল্লাহর নুসরতের ধারা-যমযম। এরপর কুরবানীর অগ্নি-পরীক্ষায় পিতা-পুত্রের উত্তীর্ণ হওয়া, আল্লাহর ঘর নির্মাণ, আখেরী নবীর আগমনের জন্য আল্লাহর দরবারে মুনাজাত এরপর আখেরী নবীর আগমন, তাঁর দাওয়াতে তাওহীদ ও ঈমান, মুশরিক-পৌত্তলিকদের চরম বিরোধিতায় মুমিন-মুসলিমগণের কারাবরণ ও শাহাদতবরণ এরপর হিজরত ও স্বদেশ ত্যাগ সবশেষে আল্লাহর নুসরতে বিজয়ীর বেশে আল্লাহর নবীর এ ভূখন্ডে প্রবেশ। এককথায়, আল্লাহর বান্দাদের চরম ত্যাগ ও কুরবানী আর আল্লাহর তরফ থেকে চূড়ান্ত মদদ ও নুসরতের একেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় তো এখানেই, এই ভূখন্ডতেই রচিত হয়েছে। অতএব এখান থেকে আমরাও তো গ্রহণ করতে পারি চেতনা ও সাহসের কিছু আলো।

আজ উম্মাহর চরম দুর্দিনে সেই পরম ইতিহাসই আমাদের আলোকবর্তিকা, আমাদের চালিকা শক্তি।

সুতরাং এই পবিত্র ভূমিতে বিচরণের তাওফীক আল্লাহ যাদের দেবেন কিংবা হজ্ব ও কুরবানীর এ আলোকিত মওসুম যাদের অতিক্রম করার সুযোগ হবে তারা তো সত্যিই ভাগ্যবান। আমরা যদি সচেতন হই, যদি হৃদয়ের দ্বার খুলি তাহলে এই পবিত্র সময়ে আমাদের জন্য আছে শিক্ষা ও চেতনার অনেক কিছু, সাহস ও সান্ত্বনার অনেক উপকরণ ।

মেহেরবান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হজ্ব ও কুরবানীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসব শিক্ষা উপলব্ধি করার পাশাপাশি একনিষ্ঠতা ও আল্লাহর স্মরণে জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন।
আমীন। ইয়া রাববাল আলামীন।

*এনামুল হাসান
আরবি ভাষা ও সাহিত্য অনুষদ, জামেয়াতুল আযহার, কায়রো, মিসর।

সর্বশেষ - সারাদেশ

আপনার জন্য নির্বাচিত

হাজী আক্রাম উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজে পরীক্ষার্খীদের দোয়া অনুষ্ঠিত

রাতপোহালেই কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ, মাঠে মানুষের ঢল

দুলাল হোসেন অপুর নেতৃত্বে ২২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের আনন্দ র‌্যালী

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ।

Real Pul Onlayn Kazinoları 2023 ️ Ən Yaxşı Real Pul Oyunlarını Oyn

Real Pul Onlayn Kazinoları 2023 ️ Ən Yaxşı Real Pul Oyunlarını Oyn

১নং বিজয় পুর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের খাদ্যশস্য( চাল) বিতরণ

মনোনয়ন পত্র জমা দেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ অলিউর রহমান

কুমিল্লা নগরী ভূঁইয়া পরিবারের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে শফিকুল আলম সভাপতি ও রতন সিকদার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

die beste Casino-App im Net

die beste Casino-App im Net