মুফতি ওমর ফারুক
সামনে জিলহজ মাস। হিজরী সনের শেষ মাস। আমাদের জীবনের ডায়েরী থেকে একটি বছর শেষের পথে! জিলহজ মাসের সাথে সম্পর্ক রয়েছে ইসলামের অন্যতম একটি খুটি হজ্ব। এ মাসের শুরু দশকের মর্যাদার বিষয়ে কোরঅানুল কারীম ও হাদীস শরিফে অনেক ফজিলতের কথা বর্ণিত অাছে।
সুরা ফজরে অাল্লাহ পাক এরশাদ করেন শপথ ফজরের এবং দশ রজনীর এবং জোড় ও বেজড়ের। উপরোক্ত অায়াতে দশ রজনী দ্বারা উদ্দেশ্য হল জিলহজের প্রথম দশ রজনী। এ মাসের প্রথম দশকের ফজিলত হাদীস শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন। আল্লাহর নিকট জিলহজের প্রথম দশকের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোন দিনের অামল নেই।সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও এর চেয়ে উত্তম নয়? তিনি বললেন। না,অাল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও নয়। তবে হ্যা সেই ব্যক্তির জিহাদের চেয়ে উত্তম যে নিজের জান-মাল নিয়ে ফিরে অাসেনি। (বুখারি শরিফ)
হযরত অাব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিঃ থেকে বর্নিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন। আল্লাহর নিকট জিলহজের প্রথম দশ দিনের অামলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোন দিনের আমল নেই। সুতরাং এই দিনগুলোতে তোমরা বেশি বেশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অাল্লাহু অাকবর এবং আলহামদু লিল্লাহ পড়ো। ( মুসনাদে আহমদ)
হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন আল্লাহ তায়ালার নিকট ইবাদতের দিক থেকে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের তুলনায় অধিক পছন্দনীয় কোন দিন নেই। যার প্রতিদিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য এবং প্রতিদিনের রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সমতুল্য। ( তিরমিযী শরিফ) হযরত আবু কাতাদাহ রাযিঃ থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন। আরাফা দিনের একটি রোজার দ্বারা পূর্বের ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।( তিরমিযী শরিফ)
এ মাসের চাঁদ দেখার অাগে আমাদের কে অারো কিছু কাজ করতে হবে যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন। যখন এ মাসের চাঁদ উঠে। আর তোমাদের কেহ কুরবানি করার ইচ্ছা করে সে যেন চুল, নখ ( শরিরের অবাঞ্ছিত পশম,) না কাটে। ( মুসলিম শরিফ)
অপর হাদিস দ্বারা জানা যায় সে ব্যক্তি এ কাজের বিনিময়ে কুরবানির নেকি লাভ করবে।
অতএব অামাদের কে চাঁদ উঠার আগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে।
লেখাটি লিখেছেন
কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড জামে মসজিদের খতিব জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি ওমর ফারুক।